নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে বিতর্কিত ব্যক্তিরাই নেতৃত্বে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০ নং ওয়ার্ডের সম্মেলন হলেও দীর্ঘদিন ধরে কমিটি দেওয়া হয়নি তবে সম্প্রতি কমিটি দেওয়ার তোরজোর শুরু করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে হাসান মাহমুদ এর নাম। অথচ ১৯৯২ সালে রমনা থানা শাখা সাবেক ৬৩ নং ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কমিটিতে হাসান মাহমুদ এর নাম রয়েছে।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহজালাল সোহেলের নামে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ফেন্সিডিল ব্যবসায়ী হিসেবে নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং তার নামে শাহবাগ থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। যার নং ৭৩৩।
শাহজালাল সোহেলের পিতা মোঃ আমিনুদ্দিন, মাতা মৃত তাজিয়া বেগম। সাংঃ বাঘবাড়ি ,থানা ও জেলা লক্ষীপুর। গত ৩০ /১২ /২০১৯ ইং তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহবাগ থানা পুলিশ জানতে পারে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা মেডিকেল সেন্টারের পেছনে রাউটার গাজী মহিউদ্দিন বেলালের সরকারি টিনশেড বাসা এর সামনে রাস্তায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী অবৈধ মাদকদ্রব্য ও ফেনসিডিল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুর রহমান বিপিএম (বার) পিপিএম এবং তার সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলাম, এএসআই আব্দুল আলী সরকার, এএসআই শরিফুল ইসলাম, এএসআই হারুনুর রশিদ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় দ্রুত পলায়নের চেষ্টা কালে মোঃ শাহজালাল সোহেল আটক হয়।
সূত্রে জানা যায় ওই দিন শাহজালাল সোহেল এর বাম হাতে ধরে থাকা একটি কালো রঙের অফিস ব্যাগের ভিতর পুরাতন খবরের কাগজ দিয়ে মোড়ানো ১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এদিকে বিএনপির নেতা শাহাদাত হোসেন শহীদ বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল নং ৮ এ মামলা রয়েছে। যার নং ৬৫/২০১৯।
সূত্রে জানা যায় শাহাদাত হোসেন শহীদের নামে নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে এবং কুপ্রস্তাব পাঠায়। এর ওই ধারাবাহিকতায় মোসাঃ নাসরিন বেগম নাসিমা কে প্রায় সময় পথে ঘাটে উক্ত্যক্ত করত এবং নানান ধরনের কুপ্রস্তাব পাঠাতো। কিন্তু মোসাঃ নাসরিন বেগম নাসিমা তার সে সকল প্রস্তাব অগ্রাহ্য করিয়া এরাইয়া চলার চেষ্টা করত।
তাতে শহীদ আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গত ৪/৮/২০১৯ ইং তারিখে আনুমানিক বিকাল ১.৩০ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল বরিশাল প্লাজার পশ্চিম পাশে রোজগার্ডেন এর সাথে চতুর্থ তলা ভবনের ছাদের উপরে আধাপাকা টিনশেড ঘর যেখানে মোসাঃ নাসরিন বেগম নাসিমা বসবাস করে। উক্ত ঘরে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে হঠাৎ করিয়া শাহাদাত হোসেন শহীদ প্রবেশ করিয়া নাসরিন বেগমের মুখ চাপিয়া ধরে। নাসরিন বেগম কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে ঝাপটাইয়া খাটের উপর শোয়ানোর চেষ্টা করে এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চেষ্টা করে।
পরে এ বিষয়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ৮ এ একটি মামলা দায়ের হয় যার নং ৬৫/২০১৯
জানা যায় তৎকালীন সময়ে বিএনপির রমনা থানার সাবেক ৬৩ নং ওয়ার্ডের ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহাদাত হোসেন শহীদের নামও রয়েছে। তারা বর্তমানে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী।
তৎকালীন সময়ে রমনা থানার বিএনপি’র ওই সম্মেলন কমিটিতে অন্যান্য যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন:
১/ রমনা থানার বিএনপির সভাপতি চৌধুরী এনাম।
২/ ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম।
৩/ রওনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তালুকদার আবুল আহসান ননী
৪/ ৬৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম চিনু।
৫/ ৬৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এম এ হান্নান।
৬/ ৬৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শহীদ।
৭/ রমনা থানা যুবদলের আহবায়ক নুরুল ইসলাম।
৮/ ৬৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস।
৯/ বি.বি.এভিনিউ ইউনিট যুবদলের নেতা ইকবাল হোসেন লিটন।
১০/ বি. বি. এভিনিউ ইউনিট যুবদল নেতা মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ।
১১/ বি.বি. এভিনিউ ইউনিট বিএনপি’র সহ-সভাপতি দিদার হোসেন মোল্লা।
১২/ বি. বি. এভিনিউ ইউনিট বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন নওয়াব।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের আস্থাভাজন লোক হিসেবে চাঁদাবাজি, বাড়ি দখল, জমি দখলসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করছি। কমিটি হলে অবশ্যই স্বচ্ছ লোক নেতৃত্বে আসবে।
Leave a Reply